কুয়াশায় মোড়া শীতের সকাল



সকালবেলা। কুয়াশার চাদরে মোড়া চারদিক। গ্রামের ছোট্ট মাটির পথটা যেন এক জাদুর রাজ্যের প্রবেশপথ হয়ে উঠেছে। দূর থেকে সূর্যের ক্ষীণ আলো ভেদ করতে চায় কুয়াশার মোটা পর্দা, কিন্তু তা ব্যর্থ। গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো ক্ষণিকের জন্য মুক্তোর মতো ঝিলমিল করে।

পথের ধারে জীর্ণ বাঁশের বেঞ্চিতে বসে আছে ছোট্ট রাহুল। ওর হাতে ধরা এক পুরনো লাল রঙের চাদর, গায়ে কেবলমাত্র একটি পাতলা সোয়েটার। দূর থেকে ভেসে আসছে পিঠা তৈরির ধোঁয়ার গন্ধ। পাশেই দেখা যাচ্ছে চায়ের দোকান। দোকানের ভেতর আগুনের তাপ নিতে জড়ো হয়েছে কিছু মানুষ।

রাহুলের চোখে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। শীত মানেই তার কাছে গ্রামে মেলা বসার দিন। স্কুলের মাঠে বসে আজকের মেলাটি। রাহুলের অপেক্ষা শুধু মেলার শুরু হওয়ার।

এদিকে গ্রামের অন্যপাশে, কল্পনা খালা ভোর থেকেই পিঠা বানাচ্ছেন। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা— একের পর এক পিঠা সাজিয়ে রাখছেন। তিনি জানেন, আজকের মেলায় তার এই পিঠাগুলোই হবে সবচেয়ে বেশি চাহিদার। মায়ের আঁচলে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাহুলের ছোট বোন তুলি। তার একমাত্র শখ, মেলায় গিয়ে রঙিন বেলুন কিনবে।

সকাল পেরিয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে যেতে থাকে। তাপস্রোতে ভরপুর সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। মেলার মাঠে ভিড় জমতে শুরু করে। রাহুল আর তুলি, দুজনেই তাদের মা-বাবার হাত ধরে মেলার দিকে ছুটে যায়। চারদিকে হাসি-আনন্দে ভরে ওঠে পরিবেশ।

শীতের এমন কুয়াশাচ্ছন্ন দিনের স্মৃতি যেন চিরকাল গেঁথে থাকে রাহুলের মনে। কুয়াশা সরলেই দিনের উষ্ণতা যেমন ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি শৈশবের এমন দিনের উষ্ণতা জীবনের প্রতিটি শীতে তাকে জড়িয়ে ধরে।



Post a Comment

Previous Post Next Post