বন্ধুত্বের রঙ

 




এক গ্রামে ছিল ছোট্ট এক ছেলে, আরিফ। সে খুব দুষ্টু হলেও তার একটি বিশেষ গুণ ছিল—সবাইকে হাসাতে পারা। কিন্তু তার পরিবার ছিল গরিব। বাবা দিনমজুর, মা গ্রামের মহিলাদের জন্য কাপড় সেলাই করতেন।

একদিন আরিফ খেলতে গিয়ে জঙ্গলের এক কোণে একটা পাখির বাচ্চা পড়ে থাকতে দেখল। বাচ্চাটি আহত ছিল, তার ডানায় রক্ত জমে গিয়েছিল। আরিফ সেটাকে বাড়িতে নিয়ে এলো। মা প্রথমে বকাঝকা করলেন, কিন্তু ছেলের মন খারাপ দেখে আর কিছু বললেন না।

আরিফ পাখিটিকে যত্ন করে সুস্থ করে তুলল। পাখিটি আস্তে আস্তে তার ডানায় ভর দিয়ে উড়তে শিখল। আরিফের সঙ্গে তার যেন একটা গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গেল। প্রতিদিন সকালে আরিফ তাকে খাবার দিত, আর পাখিটি তার খেলার সঙ্গী হয়ে উঠত।

কিছুদিন পর, পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেল। একদিন সে আরিফের হাত থেকে খাবার খেয়ে আকাশে উড়ে গেল। আরিফের মন ভেঙে গেল। সে ভাবল, "বন্ধুটা আমাকে ছেড়ে চলে গেল।"

কিন্তু পরদিন সকালে পাখিটি আবার ফিরে এলো। আরিফ খুশিতে পাখির চারপাশে নাচতে লাগল। পাখিটি তার ঠোঁটে একটা ছোট্ট রঙিন ফুল নিয়ে এসেছিল। যেন বন্ধুত্বের প্রতীক।

এরপর থেকে পাখিটি প্রতিদিন সকালে আরিফের কাছে আসত, তার জন্য সুন্দর ফুল নিয়ে আসত। এই ছোট্ট বন্ধুত্ব গ্রামের মানুষেরও নজর কাড়ল। তারা আরিফের ভালোবাসা ও যত্নের গল্প শুনে মুগ্ধ হলো।

আরিফ শিখল, ভালোবাসা কখনো বেঁধে রাখা যায় না। সঠিক ভালোবাসা মুক্তি দেয় এবং প্রতিদান হিসেবে আরও ভালোবাসা এনে দেয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post